এগিয়ে ইংল্যান্ড, মরণ কামড় দেবে নিউজিল্যান্ড


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বুধবার ইংল্যান্ডের মোকাবিলা করবে নিউজিল্যান্ড। আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মরগান বাহিনী মুখোমুখি হবে কেন উইলিয়ামসন বাহিনীর। দুই দলের পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড এগিয়ে, তবে শক্তির বিচারে পিছিয়ে নেই কিউইরা। নিউজিল্যান্ড সব সময় সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যায়। ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করতে ব্ল্যাক ক্যাপসরা মরণ কামড় দেবে।

এবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড গোছাল ক্রিকেট খেলছে। ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগে তারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে। এর আগে ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। সে দেখায় ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ব্ল্যাক ক্যাপসদের আসর থেকে বিদায় করেছিল ইংল্যান্ড। তাছাড়া গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও তাদের বিপক্ষে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল কিউইরা। এবার তাদের হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে যাওয়ার পথ খুঁজবে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে পাঁচ বার। সে পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে ইংল্যান্ড। পাঁচ বারের দেখায় তিন বারই জয় পেয়েছে ইংলিশরা। বাকি দুই দেখায় জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপ নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মধ্যে মোট দেখা হয়েছে ২১ বার। সেখানে অবশ্য এগিয়ে ইংলিশরা। নিউজিল্যান্ডের ৭ জয়ের বিপরীতে ১৩ জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড, বাকি এক ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। এদিকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়েও বেশ এগিয়ে মরগানরা। নিউজিল্যান্ড আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে চারে, আর ইংলিশরা আছে শীর্ষস্থানে।

র‌্যাঙ্কিং এবং পরিসংখ্যানে ইয়ান মরগানরা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি একতরফা হবে না। হাইভোল্টেজ ম্যাচ হবে। অনেকটা ফাইনালের আগে ফাইনাল। দু দলেরই জয়ের সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি।

এবার বিশ্বকাপে ইংলিশ ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে ঝড় তুলে যাচ্ছেন। ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো, ইয়ন মরগানরা ব্যাট হাতে যে কোনো সময়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর স্টিমরোলার চালাতে বেশ পটু। কীভাবে ঝড় থামাতে হয় সেই মন্ত্রও ভালো জানেন কিউই বোলাররা। টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, জেমস নিশামের পেস বোলিং অ্যাটাকের সঙ্গে মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোদিদের ঘূর্ণির মিশেলে উড়ে যেতে পারে যে কোনো দলের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপও। কিউই ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মার্টিন গাপটিল একাই তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন। তাছাড়া কেন উইলিয়ামসন, ডেরেল মিচেল, নিশাম, ডেভন কনওয়ে, গ্লেন ফিলিপস, টিম সেইফার্টরা ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠলে ম্যাচ থাকবে তাদের নিয়ন্ত্রণেই।

তবে চলতি বিশ্বকাপে বোলিংয়ের ধার দেখিয়ে যাচ্ছেন ইংলিশ বোলাররাও। বিশেষ করে পেসার টাইমাল মিলস, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, লিয়াম লিভিংস্টোনের গতিতে উড়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং শিবির। এ ম্যাচে পেস আক্রমণে ইংল্যান্ড এগিয়ে, স্পিন আক্রমণে দুই দল সমানে সমান বলা যায়। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা একটু স্লো শুরু করলেও পরবর্তীতে আক্রমণাত্মক হয়ে রানের চাকা বাড়িয়ে নেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন ইংলিশরা। স্পিন আক্রমণে ইংল্যান্ডের মঈন আলী ও আদিল রশিদের সঙ্গে মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

রি-এসএস/ইভূ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *