টানা পাঁচ জয়ে সেমিতে অস্ট্রেলিয়াকে পেল পাকিস্তান


সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে জিতে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। রবিবার (৭ নভেম্বর) বাবর আজমরা টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। স্কটল্যান্ডকে ৭২ রানে হারিয়ে জয়যাত্রা অব্যাহত রাখে পাকস্তান। স্কটিশরা পাকিস্তানের ১৮৯ রানের জবাবে খেলতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান সংগ্রহে সমর্থ হয়। গ্রুপ-২ থেকে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড সেমিতে জায়গা পেয়েছে। গ্রুপ -১ থেকে সেমিফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ১১ নভেম্বর দুবাইয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার মোকাবিলা করবে। আবুধাবিতে ১০ নভেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

রবিবার নিয়ম রক্ষার ম্যাচে পাকিস্তান মাঠে নামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে এই ম্যাচে জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাবর আজম বাহিনী। এমন সমীকরণে শারজায় রবিবার টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক বাবর আজম। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করেন ১৮৯ রান। এ ম্যাচ জিততে হলে স্কটিশদের করতে হতো ১৯০ রান। রবিবার শোয়েব মালিক ১৮ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন। অপর প্রান্তে আরেক হার্ডহিটার আসিফ আলী রবিবার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তিনি ৪ বলে ৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন। রবিবার মরু বুকে ঝড় তোলেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুন্য প্রদর্শনের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেন শোয়েব মালিক।

স্কটিশ বোলারদের মধ্য হামজা তাহির, সাফিয়ান শরিফ ও ক্রিস গ্রিভস ২টি করে উইকেট তুলে নেন। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুটা ভাল হয়নি পাকিস্তানের। পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান তুলে নেন মাত্র ৩৫ রান। সপ্তম ওভারে এসে রিজওয়ানকে ফেরান হামজা তাহির। তার বলে উইকেট-রক্ষক ম্যাথিউ ক্রসের তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তান উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান। রিজওয়ান ১৯ বলে ১ ছক্কার মারে ১৫ রান করেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মাঠে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ফখর জামান। ক্রিস গ্রিভসের শিকার হয়ে ১৩ বলে মাত্র ৮ রান করে মাঠ ছাড়েন ফখর। তবে একপ্রান্ত আগলে ধরে স্কটিশদের হতাশায় ডোবাতে থাকেন পাক অধিনায়ক বাবর আজম। তার সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন মোহাম্মদ হাফিজ। তিনি ১৯ বলে ৩১ রান করে এল-বি-ডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন। তার ইনিংসটি ৪ চার ও ১ ছক্কার মারে সাজানো ছিল। দলীয় ১১২ রানে মাঠে নেমে তান্ডব চালাতে থাকেন শোয়েব মালিক। এর মধ্য বাবর আজম ৪০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কার সাহায্য চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। এরপর বাবর আরো ২টি ছক্কার মার মারলেও, তৃতীয় প্রচেষ্টায় সীমানায় জর্জ মুনসের তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন। ক্রিস গ্রিভসের শিকার হওয়ার আগে তিনি ৪৭ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন। অপরদিকে মাঠে বিধ্বংসী ব্যাট চালিয়ে স্কটিশদের নাস্তাবুদ করতে থাকেন সাবেক পাক অধিনায়ক শোয়েব মালিক।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *