সাকিবের খেলা নিয়ে সংশয়! – Bhorer Kagoj


আসন্ন টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপ মঞ্চে ভালো খেলতে আইপিএলে নিজকে পরখ করে নিচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি এ টুর্নামেন্টে খেলছেন কলকাতার হয়ে। দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে বুধবার (১৪অক্টোবর) দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাকিবরা।

এ ম্যাচ কলকাতা জিতলে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত হবে। তাই আইপিএল শেষ করেই টাইগার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। যেহেতু আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ ১৫ অক্টোবর সেহেতু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৭ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের খেলা নিয়ে সংশয় আছে। আর যদি কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে কলকাতা হেরে যায় তাহলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রথম ম্যাচে সাকিবের খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না।

এছাড়া গতকাল সোমবার রাতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার যখন খেলছেন কলকাতার হয়ে, তখনই উন্মোচিত হয়েছে বাংলাদেশের টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপ জার্সি। তবে নিয়ম অনুযায়ী, দল বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগেই জার্সি উন্মোচন করা হয়। কিন্তু এবার মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসরা বিশ্বকাপ জার্সি গায়ে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ঢাকার এক হোটেলে জার্সি উন্মোচন করেছে বিসিবি।

সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান জানিয়েছেন, আইপিএল শেষ করেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সাকিব। এছাড়া আরো জানা গেছে, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে এবার টাইগারদের বিশ্বকাপ জার্সি প্রস্তুত করা হয়েছে। জার্সির সামনের অংশ তৈরিতে যে সুতো ব্যবহার হয়েছে সেটি রিসাইকেল জ্যাকার্ড ফেব্রিক নামে পরিচিত। যেটি প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি। পেছনের অংশ বানানো হয়েছে ম্যাশ ফেব্রিক থেকে। যেটাতে বাতাস আসা-যাওয়ার (এয়ার সার্কুলেশনের) ব্যবস্থা আছে।

আরব আমিরাতের গরমের কথা বিবেচনা করেই এমন জার্সি প্রস্তুত করা হয়েছে। সবশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজে যে জার্সি পরে খেলেছিল বাংলাদেশ, সেটা দেখা যায়নি বিশ্বকাপের হোম জার্সিতে। সে জার্সিতে নিচের অংশে ছিল লালের আধিপত্য। পুরো আস্তিনই ছিল লালের দখলে। নতুন জার্সির নিচের অংশ থেকে উঠে গেছে লাল শেড। জমিনে জলছাপ আছে, তবে পটভূমির পুরোটাজুড়ে সবুজ। পুরো আস্তিন লালের বদলে জায়গা করে নিয়েছে সবুজ। লালের অস্তিত্ব আছে কেবল কাঁধের অংশে।

টাইগারদের বিশ্বকাপের জার্সিটি দেশব্যাপী আড়ংয়ের সব আউটলেট, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অফিসিয়াল অ্যাপে পাওয়া যাবে। জার্সির জন্য শুরুতে প্রি-অর্ডার করতে পারবেন সমর্থকরা। বুধবার (১৪অক্টোবর) থেকে পাওয়া যাবে এই জার্সি। বড়দের জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০০ টাকা। ছোটদের জার্সি পাওয়া যাবে ১০০০ টাকায়।

এদিকে আরব আমিরাতে আইপিএলের দ্বিতীয় অংশে সাকিবের কিছুতেই জায়গা হচ্ছিল না একাদশে। শেষ পর্যন্ত আন্দ্রে রাসেলের চোটই তার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। যার কার্যকারিতা প্রমাণ করেন তিন ম্যাচেই। ৯ ম্যাচ পর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম একাদশে ডাক পান সাকিব। ওই ম্যাচে ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২০ রান খরচায় ১ উইকেট শিকার করেন। কিন্তু ব্যাট করতে হয়নি তাকে। কারণ আগেই জিতে যায় তার দল কলকাতা। ওই ম্যাচে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে দুর্দান্ত থ্রোয়ে রানআউট করেন সাকিব।

এরপর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বাঁচা-মরার ম্যাচে রাজস্থানের বিপক্ষেও দুর্দান্ত খেলেছেন। এক ওভার বল করে ১ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রথম উইকেট নেন। জয়দেব উনারকাটের ক্যাচও ধরেন। এছাড়া দারুণ থ্রোতে চেতন সাকারিয়ার রান আউটে রাখেন অবদান। এর ফলে রাজস্থানকে ৮৬ রানে হারিয়েছে কলকাতা। এমনকি গতকাল সোমবার এলিমিনেটর ম্যাচে বেঙ্গালুরুকে হারানোয় দারুণ অবদান রেখেছেন সাকিব। তার ব্যটিং-বোলিংয়ে ভর করে ৪ উইকেটে জিতেছে কলকাতা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ৪ ওভারে ২৪ রান খরচ করে উইকেটশূন্য থাকলেও ব্যাট হাতে খেলেন ৯ রানের কার্যকরী ইনিংস। মূলত দলের জয়সূচক রানও আসে সাকিবের ব্যাট থেকে।

শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান করেন। জবাবে ২ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কেকেআর।

১৩৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে কলকাতা। ৫.২ ওভারে ৪১ রান তুলে আউট হন ওপেনার শুভমান গিল। ১৮ বলে ৪ চারে ২৯ রান করে আউট হন এই ওপেনার। তার বিদায়ের পর রাহুল ত্রিপাঠি দ্রুত বিদায় নেন। ৮ নম্বরে খেলতে নেমে সাকিব ৬ বলে এক চারে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে পাঁচ নম্বরে নামা ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার সুনীল নারিনের ১৫ বলে ৩ ছক্কায় ২৫ রানের ইনিংসেই জয়ের ভিত পায় কেকেআর। শেষ ওভারে জিততে তাদের দরকার ছিল ৭ রান। সাকিব ও ইয়ন মরগানের জুটির ওপর ভর করে শেষ ওভারের চতুর্থ বলে গিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে কলকাতা। জয়সূচক রানটি আসে সাকিবের ব্যাট থেকে।

এছাড়া ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই সাকিব বাংলাদেশের আশা-ভরসার স্থল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার মাঠের দিনগুলো ভালো কাটেনি। তবে আইপিএলে নিজকে বেশ ভালোই প্রস্তুত করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ আইসিসির সর্বশেষ কোনো ইভেন্টে খেলে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সেই বিশ্বকাপে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ রানের সংগ্রাহক হয়েছিলেন সাকিব। সঙ্গে পুরো বিশ্বকাপে হয়েছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এবারো আসন্ন টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এমন কিছু হবেই তা প্রত্যাশা সব টাইগার সমর্থকদের। সাকিব এ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলেছেন ২৪টি। এ ম্যাচগুলোতে বল হাতে ৩০টি উইকেট শিকার করেছেন। আর ব্যাট হাতে রান করেছেন ৫৬৭।

রি-কেই/ইভূ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *