পচেত্তিনোর ব্যাখ্যা সমর্থকদের মন ভরাতে পারেনি


লিগ ওয়ানে আজ সোমবার লিঁওর বিপক্ষে প্রথমবারের মতো লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাঠে নামিয়েছিলেন পিএসজির কোচ মারিসিও পচেত্তিনো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথমবারের মতো এ তিন তারকা মাঠে নামেন। আজ লিগ ওয়ানেও একই সঙ্গে নামা হয়ে গেল তাদের। তবে এ তিনজনকে একসঙ্গে নামলেও ক্লাবটির কোচ মারিসিও পচেত্তিনো ম্যাচের ৭৪ মিনিটের সময় মেসিকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন। তখন ম্যাচটির ফলাফল ছিল ১-১। আর এই সময় মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়ায় মেসি বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তিনি বলতে গেলে পচেত্তিনোর সঙ্গে একটু রাগই দেখিয়েছেন। ক্লাবটির সমর্থকরাও এ বিষয়টি নিয়ে পচেত্তিনোর ওপর খুশি হতে পারেননি।

পচেত্তিনো এই তিন মহাতারকাকে একসঙ্গে মাঠে নামালেও তারা সমানভাবে দলের হয়ে ভূমিকা রাখতে পারছেন না। যেমন আজকের ম্যাচটিতে নেইমার নিজে গোল করেন। অন্যদিকে এমবাপ্পে ইকার্দিকে দিয়ে গোল করান। মেসি নিজে গোল করতে গিয়েও পারেননি। তবে মেসির চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। তবুুও তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়ার বিষয়টি মানতে পারেননি মেসি ও তার সমর্থকরা। তাছাড়া পচেত্তিনো এই তিনজনকে একসঙ্গে মাঠে নামালেও তাদের বিষয়ে নাকি এখনো তিনি বুঝতে পারছেন না তাদের নিয়ে কিভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ফলে এই তিন মহাতারকা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারছেন না। তাছাড়া সমর্থকরা এখন বলছেন পচেত্তিনো শুধু আক্রমণ ভাগ নিয়েই ভাবছেন। দলের মধ্যভাগ নিয়ে তার মাথা ব্যথা কম। আর মধ্যভাগটি ঠিক মতো না হওয়ায় পিএসজি ভুগছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এদিকে দলের ফলাফল যখন ১-১ গোলের ড্র ছিল তখন মেসিকে উঠিয়ে নেয়ায় পচেত্তিনো অনেক সমালোচনায় পড়েছেন। ম্যাচ শেষে তাই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন মেসিকে দলের দুঃসময়ে তিনি উঠিয়ে নেন। এ কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন মেসিকে তিনি মাঠ থেকে নাকি উঠিয়ে দিয়েছেন তার ইনজুরির কথা চিন্তা করে। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন মেসি ও পিএসজির ভবিষ্যৎ ম্যাচের কথা চিন্তা করে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে তিনি উঠিয়ে নিয়েছেন। কারণ একটা সময় দেখা যাচ্ছিল মেসি তার হাত দিয়ে হাঁটুতে মালিশ করছিলেন। ফলে বোঝা যাচ্ছিল তিনি কিছুটা সমস্যা বোধ করছিলেন।

তাছাড়া পচেত্তিনো জানিয়েছেন যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তার আছে। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বেশি মাতামাতি না করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যাই তিনি করেছেন দলের ভালোর জন্যই। এ ব্যাপারে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সবাই জানে, আমাদের দলে সব দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছেন। আমাদের স্কোয়াডে ৩৫ জন অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের ঠিক করতে হয় কোন ১১ জন ম্যাচ শুরু করবে। এরপর ম্যাচ চলাকালীন সময়েও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনো কখনো সিদ্ধান্তগুলো কাজে লাগে, কখনো কখনো কাজে লাগে না। কিন্তু এ কাজগুলো করার জন্যই আমরা বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি এবং ভাবি যে কী করা উচিত। এসব সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতেই হব, সেটায় ফল ভালো আসুক বা না আসুক, পছন্দ হোক বা না হোক।’

এসএইচ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *