বিশ্বকাপ দোরগোড়ায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা


আসন্ন সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরের সূচি প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। মঙ্গলবার ( এক বিবৃতি দিয়ে এ সূচি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার দিনগুলোও। ১৭ অক্টোবর শুরু হবে ব্যাট-বলের এ মহাযজ্ঞ। আর উদ্বোধনী দিনেই টাইগাররা বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচই হবে ওমানে। ১৭ অক্টোবর লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে। এরপর ১৯ অক্টোবর স্বাগতিক ওমান ও ২১ অক্টোবর পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে খেলবে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী।

সাজ্জাদুল আলম ববি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে মঙ্গলবার ভোরের কাগজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, প্রস্তুতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিশ্বকাপে আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আমরা শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সফর করেছি। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি। এগুলো প্রতিটি আলাদা আলাদা সিরিজ হলেও এখানে আমাদের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতির কর্মকাণ্ড ছিল। ক্যাম্প করলেই কিন্তু ভালো প্রস্তুতি হয় না। ম্যাচ খেলে যে প্রস্তুতি নেয়া হয়, সেটাই যথার্থ প্রস্তুতি। সিরিজ খেলা হয়েছে, টুর্নামেন্ট খেলা হয়েছে সঙ্গে আমরা পরবর্তী সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২৪ আগস্ট থেকে ক্রিকেটাররা বায়োবাবলে ঢুকে যাবেন নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য। এখানে ব্যাটে-বলে চলবে অনুশীলন। তাছাড়া খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যে রয়েছেন। সে হিসেবে আমার মনে হয় প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

কন্ডিশন অনুযায়ী উইকেট বানানো। উইকেট বানানোর আগে নানা বিষয় ভাবতে হয়। প্রতিটি দেশ সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের ফেভারে উইকেট বানায়। টি-টোয়েন্টিতে দর্শক রান দেখতে চান। এক দল রান করবে, অপর দল তা অতিক্রম করে ম্যাচ জিতবে। আমি এ উইকেটে আরো রান দেখতে চাই। কমপক্ষে ১৪০ রান।

মেহরাব হোসেন অপি

জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটসম্যান মেহরাব হোসেন অপি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে মঙ্গলবার ভোরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে সঠিক পথে এগোচ্ছে। তারা একের পর এক সিরিজ খেলছে। খেলার মধ্যে থাকায় প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। কোচ দল গুছিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ফরমেটে জয়ের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান টাইগাররা। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যাবে।
উইকেট সম্পর্কে জাতীয় দলের এ ব্যাটসম্যান আরো বলেন, ওমানের উইকেট কেমন হবে, সে ভাবনা মাথায় রেখেই এগোচ্ছে বিসিবি। আমাদের সবার আগে ভাবতে হবে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের কথা। বাছাই পর্ব পার হওয়ার পর মূল পর্ব নিয়ে ভাবা উচিত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে মঙ্গলবার আইসিসির ওয়েবসাইটে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেছেন অংশ নেয়া দলগুলোর অধিনায়করা। এখানে উল্লেখযোগ্য কয়েক দেশের অধিনায়কের বক্তব্য তুলে ধরা হলো। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, আমাদের শক্তির জায়গা দলের অলরাউন্ডাররা এবং বোলিং বিভাগ। পাশাপাশি আমাদের ব্যাটিংও ভালো এবং দলের ব্যালেন্স দারুণ। পাঁচ-ছয়জন অলরাউন্ডার আছে আমাদের, যারা ব্যাট-বল দুটিতেই অবদান রাখতে পারে। এই মুহূর্তে আমাদের ফাস্ট বোলাররা অবিশ্বাস্য পারফর্ম করছে। স্পিন তো বরাবরই আমাদের শক্তি। তারা যদি কয়েকটি ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে পারে, আশা করি আমরা ভালো কিছু ফল পাব।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১

দুবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড বলেছেন, শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে বছরের শেষ দিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠে নামতে আমরা রোমাঞ্চিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দারুণ রোমাঞ্চকর আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তো এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, ক্রিকেটাররা প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে দর্শনীয় একটি আসরের আশা করছি আমরা। সুপার টুয়েলভে আমাদের গ্রুপটি দারুণ, যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মাঠের লড়াই শুরু করতে তর সইছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা সবসময়ই রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলে। আমি নিশ্চিত ক্যারিবিয়ান ও পুরো বিশ্বে সমর্থকরা মাঠে আমাদের দেখার জন্য অধীর প্রতীক্ষায় আছেন।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান বলেছেন, ছেলেদের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বেকাপটি দারুণ হবে। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মান দ্রুত উন্নতি করছে এবং প্রতিটি দেশেরই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। লড়াই শুরু করতে তর সইছে না আমাদের।
পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা বহুল প্রতীক্ষিত বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটির প্রস্তুতিতে আমাদের এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। আমরা এই সময়টাকে কাজে লাগাব ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে। আমাদের লক্ষ্য কেবল ছোট ছোট বিষয়কে ঠিক করাই থাকবে না, যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জিততেও চাইব আমরা। যাতে এই জয়ের ধারাবাহিকতা ও ছন্দ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বয়ে নিয়ে যেতে পারি। পাকিস্তানের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১ ঘরের আসরের মতো, যেহেতু এক দশকের বেশি সময় ধরে আরব আমিরাত আমাদের ভেনু ছিল। আরব আমিরাতে আমরা কেবল আমাদের প্রতিভাকে লালন ও দলের উন্নতি করিনি, এই কন্ডিশনে শীর্ষ দলগুলোকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরও হয়েছি।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছেন, মহামারির কারণে বিশ্বের খেলাধুলায় অনেক বিঘ্ন ঘটার পর মনে হচ্ছে, এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে অনেক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এটা সব সময়ই দারুণ প্রতিযোগিতামূলক আসর হয়ে থাকে, যেখানে প্রতিটি দলেরই আছে ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়, যে ম্যাচ খুব দ্রুত ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমার মতে, অভিজ্ঞ ও নতুন দারুণ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিয়ে গড়া আমাদের দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আরব আমিরাতে হওয়া গত বছরের আইপিএলে আমরা দেখছি, এখানের উইকেট টুর্নামেন্টের সময় গড়ানোর সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে। পেস ও স্পিন দুই বোলিংই এ কন্ডিশনে কাজে দেয়।

বিশ্বকাপের মূলপর্ব খেলতে হলে আগে প্রথম পর্ব টপকাতে হবে বাংলাদেশ দলকে। প্রথম পর্ব টপকালে সুপার টুয়েলভের টিকেট পাবে টাইগাররা। প্রথম রাউন্ডে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে মোট ৮টি দল। বাংলাদেশ ছাড়াও টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্য থেকে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে খেলতে হবে প্রথম রাউন্ডে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে স্কটল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও ওমান। ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দল সুপার টুয়েলভে উঠবে। বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হলে সুপার টুয়েলভে খেলতে হবে গ্রুপ-২ এ। এই গ্রুপে আছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। এছাড়া গ্রুপ-২ এ রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। ‘এ’ গ্রুপের রানারআপ দলও খেলবে এই গ্রুপে। সুপার টুয়েলভে গ্রুপ-১ এ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও ‘বি’ গ্রুপের রানারআপ দল। তবে প্রথম পর্বের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা নিজেদের গ্রুপে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি। এই তিন দলের বিপক্ষে বেশ দাপটেই লড়াই করবে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী, তা নতুন করে কিছু বলার নেই। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে ওমান-পাপুয়া নিউগিনি। আর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড-বাংলাদেশ। এরপর ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচে রাত ৮টায় স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে লড়বে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। ২১ অক্টোবর তৃতীয় ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে বিকাল ৪টায় মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

রি-এসএস/ডি-আরআর



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *