আফগানিস্তানে আজ যা হচ্ছে, কাল তা আমার দেশেও হতে পারে: জয়া


দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেছেন, আজকে আফগানিস্তানে যা হচ্ছে, কাল তা আমার দেশে বা কলকাতায়ও হতে পারে। বাংলাদেশ হোক, ভারত হোক বা বহির্বিশ্বের যে কোনও দেশেই মেয়েদের উপরে অত্যাচার হলে আমাদের সরব হতে হবে। বুধবার (১৮ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

জয়া আহসান বলেন, আফগানিস্তানে তালেবান শাসন কায়েম হওয়ার পরে আফগান পরিচালক সারা করিমি খোলা চিঠি দিয়ে সাহায্যের আবেদন করেছেন। সারা করিমি যে আহ্বান জানিয়েছেন, আমি মন থেকে তাতে সায় দিচ্ছি। তার সঙ্গে আছি। দূর থেকে কতটা কী করতে পারব জানি না, আমার পক্ষে যদি কিছু করার সুযোগ আসে, নিশ্চয়ই করব। ওখানকার যে সব ছবি দেখছি, শিউরে উঠছি। ওখানকার যত ছবি দেখছি, আমার ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আঙুল সব সময়েই ওঠে মেয়েদের দিকে। ঠিক কম্পাসের কাঁটার মতো তা ঘুরে যায় নারীজাতির দিকে।

এসময় তিনি তার বিনিসুতোয় ছবি নিয়ে বলেন, আসলে এটাই অতনুদার সঙ্গে আমার প্রথম ছবি। শুট হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। তার পরে রবিবার করেছিলাম। ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে এখন। এছাড়া ছবিতে একটি গান আছে, ‘মনের গভীরে মন, তারও গভীরে মন’ এই গানটাই ছবির পরিচয়। আসলে আমরা নিজেদের মনকেই চিনি না অনেক সময়ে। নিজের অন্তরের জার্নি বলা যায় এই ছবিটা। আমার চরিত্রের নাম শ্রাবণী বড়ুয়া। শ্রাবণীর সঙ্গে বরং বড় পর্দায় আলাপ হোক।

অতিমারির কারণে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে এক পত্রিকায় পড়ছিলাম যে, একে অপরের সঙ্গে মেশা, কোলাহলের মধ্যে যাওয়া এসবের প্রতি মানুষ ইচ্ছে বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আমারও মাঝেমাঝে অদ্ভুত উপলব্ধি হচ্ছে। একদিন অভ্যেসবশত বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনেকটা চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু মাস্ক পরতে ভুলে যাই। হঠাৎ গাড়িতে ওঠার সময়ে যেই ব্যাপারটা খেয়াল করি, মনে হতে লাগল যেন আমি বেআব্রু হয়ে পড়ছি। এ ভাবেই চারপাশটা মনে হয় বদলে যাচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যে কাজও করতে হবে। আর শুটিং তো একা একা হয় না। দশটা লোক নিয়েই হবে। আমাদের শুটিং বন্ধ করে রাখা মানে জল থেকে মাছকে তুলে নেওয়া। জল ছাড়া মাছ তো বাঁচবে না। শুটিং ছাড়া আমরাও থাকতে পারব না। নিরাপদে কাজের নতুন পদ্ধতি বার করতে হবে। কিন্তু কাজ, শিল্পচর্চা বন্ধ রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কয়েকটা ছবির শুটিং করলাম। নিজের প্রযোজনায় একটা ছবি করেছি। কিন্তু বেশির ভাগ সময় পরিবার ও আমার গাছবন্ধুদের সঙ্গেই কাটাচ্ছি। আশপাশে অনেক ঘুরতেও গিয়েছি। তবে কলকাতাকে মিস করছি।

ডি-এফবি



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *