বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয় – শেয়ার বিজ


ক্রীড়া ডেস্ক : মোস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারাল বাংলাদেশ। এরফলে ৫ ম্যাচের সিরিজ দুই ম্যাচ আগেই ৩-০ তে জিত নিলো টিম টাইগার্স।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন নাথান এলিস। পরে বল হাতে মোস্তাফিজ জাদুতে অজিদের ১১৭ রানে আটকে দেয় টিম টাইগার্স। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে দেন মাত্র ৯ রা। পাননি কোন উইকেট। তবে ম্যাচের ব্যবধান ঠিকই গড়ে দিয়েছেন এ পেসার।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছোট লক্ষ্য দিয়েও বল হাতে শুরুতেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই নামুস ফিরিয়ে দেন ম্যাথু ওয়েডকে। এপরপর পাওযার প্লেতে সফরকারীদের আটকে রাখেন মোস্তাফিজ-সাকিব-নাসুমরা।
পাওয়ার প্লের ঠিক পরের ওভারেই নাসুমকে ছয়-চার মারেন মিচেল মার্শ। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ম্যাকডারমট। তারা দারুণ খেলে করেন ৬৩ রানের জুটিও। তাই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়েছিল টিম টাইগার্স। শেষ বিপজ্জনক এ জুটি ভেঙে আলো ছড়ান সাকিব। দারুণ স্লোয়ারে ম্যাকডারমেটকে বোল্ড করেন তিনি। এ রেশ থাকতে থাকতেই পরের ওভারে ময়জেস হেনরিকস ফিরিয়ে দেন শরীফুল। ফ্লিক করতে গিয়ে গড়বড় হয়ে গিয়েছিল হেনরিকসের। মিড-অনে সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেননি শামীম হোসেন। তাই আরেকদফা চাপ বাড়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর। তখন তাদের জিততে দরকার ৩০ বলে এখন ৪৮। যদিও পথ দেখাচ্ছিলেন মার্শ। শেষ পর্যন্ত তাকে ইনিংসের ১৮তম প্রথম বলে নাইম শেখের দারুণ ক্যাচে ফেরান শরীফুল। ফেরার আগে মার্শ করেন ৫১ রান। তার বিদায়ে জয়ের সম্ভাবনা জোড়াল হয় টাইগারদের। কিন্তু ঐ ওভারে আলেক্স কারি দুটি চার হাঁকিয়ে স্বাগতিক চিন্তা বাড়িয়ে দেন। সে সময় অজিদের জিততে দরকার ১২ বলে ২৩ রান। ৬ উইকেট হাতে। তখন বল হাতে জাদু দেখান মোস্তাফিজ। ১৯তম ওভারে তিনি দেন মাত্র ১ রান। তাই জয়ের গন্ধ পাচ্ছিলো টিম টাইগার্স। 
ইনিংসের ২০তম ওভারে মেহেদীর প্রথম বলে ৬ হাঁকিয়ে টাইগার ভক্তদের মনে ভয় ধরিয়ে ছিলেন অ্যালেক্স কারি। তবে পরে তাকে থামিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এরআগে শুক্রবার মিরপুরে বৃষ্টির বাগড়ার পর টস জিতে ব্যাটিংয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এদিনও ব্যর্থ হন নাঈম শেখ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জশ হেইজেলউডের মিডল স্টাম্পে করা বল হালকা সুইং করে বেরিয়ে যায়। ওই  ডেলিভারিটিই খেলতে যান নাঈম। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় কিপার ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে।  এরপর তৃতীয় ওভারে হতাশ করেন সৌম্য সরকার। জাম্পার বলে হন এলবির শিকার। 
৩ রানের মাথায় দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডাউনে নেমে সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু আশা জাগিয়ে পারেননি তিনি। নবম ওভারে জাম্পার বল মোকাবিলা করতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। সেখানে থাকা অ্যাশটন অ্যাগার ক্যাচ নিতে মিস করলেন না। ১৭ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন সাকিব।
সাকিবের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আফিফ। কিন্তু রান আউট হয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। ১৩ বলে ১৯ রান করে ফেরেন এ বাঁহাতি।
দলের বিপদে হাল ধরতে পারেননি শামীম হোসাইন। ৩ রান করে বিদায় নেন। আর ৫ বলে ১১ রান করেন নুরুল হাসান সোহানও রান আউট হন।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে টিকে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। টেলএন্ডারদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১৫০ রানের পুঁজি এনে দেন অধিনায়ক। ৫২ বলে হাফসেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত আউট হন। 
অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মধ্যে অভিষেকে নাথান এলিস করেন হ্যাটট্রিক। এছাড়া জস হ্যাজেলউড ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। ২টি উইকেট শিকার অ্যাডাম জাম্পার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *