ম্যাচ ও সিরিজ সেরা সাকিব


আগের ম্যাচে বল হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া সাকিব আল হাসান আজ অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জায় ডুবাতে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে টাইগারদের বিপক্ষে মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে গেছে অজিরা। এর আগে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৯ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।

সোমবার (৯ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটহাতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি সাকিব আল হাসান। ২০ বলে ১১ রান করার পর বল হাতে ৩.৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সাকিবই প্রথম ক্রিকেটার যিনি এক হাজার রান এবং ১০০ উইকেট তুলে নিয়েছেন। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে শেষ ম্যাচে হারানোর পর টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্য প্রদর্শন করায় ম্যাচসেরার নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। এ সিরিজে ১১৪ রান এবং ৭ উইকেট তুলে নেয়ায় সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। এর আগে গত মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি।

ব্যাট হাতে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুবিধে করতে না পারলেও বল হাতে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান

ম্যাচটিতে আজ সোমবার প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৬২ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা। তারা মাত্র ১৩ ওভার ৪ বল খেলতে সমর্থ হয়। ফলে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী পায় ৬০ রানের জয়। যা তাদের টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জয়। ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৭১ রানের জয় পেয়েছিল। যা টি-টোয়েন্টিতে তাদের সবচেয়ে বেশি রানের জয়ের রেকর্ড। আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রানের জয় ছিল ওমানের বিপক্ষে। এখন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জয়ের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা।

এদিকে টি-টোয়েন্টিতে এতদিন অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সর্বনিম্ন রান ছিল ৭৯। ২০০৫ সালে সাউদাম্পটনে ইংলিদের বিপক্ষে এ লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল তারা। এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে নতুন করে সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ড নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ক্যাঙ্গারুদের। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১২৩ রান টার্গেট দিয়েও ম্যাচ জিতে নিয়ে ফের নিজেদের টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে কম রানের পুঁজি নিয়ে জয় তুলে নিতে সমর্থ হয়েছে টাইগাররা। এর মাধ্যমে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তিনবার কম রানের পুঁজি নিয়ে জয় তুলে নেয়ার রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৩১, তৃতীয় ম্যাচে ১২৭ রান করেও জয় পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

অস্ট্রেলিয়াকে ৬২ রানে ধসিয়ে দিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন সাকিব আল হাসান। তিনি ৩ ওভার ৪ বল করে মাত্র ৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের সেঞ্চুরি করেছেন। সব মিলিয়ে এখন তার উইকেট সংখ্যা হলো ১০২টি। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে তিনি টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের সেঞ্চুরি করেছেন। বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ১ হাজার ৭১৮। এর মাধ্যমে বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তিনি এক হাজার রান ও একশ উইকেট নেয়ার বিরল কীর্তি গড়েছেন। অজিদের বিপক্ষে পুরো সিরিজে ভালো খেলায় সিরিজ সেরার পুরষ্কার জয় করেছেন সাকিব। তাছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তিন ওভার করে ১২ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। তিনি আজ সোমবার শরিফুলের জায়গায় খেলার সুযোগ পান।

ম্যাচটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন নাঈম শেখ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট তুলে নেন নাথান এলিস ও ড্যান ক্রিস্টিয়ান। ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান করেছেন ম্যাথু ওয়েড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান এসেছে বেন ম্যাকডারমোটের ব্যাট থেকে। অস্ট্রেলিয়া ৪৮ রানে প্রথম চারটি উইকেট হারায়। তারা তাদের পরের ছয়টি উইকেট হারায় মাত্র ১৪ রানে। সাকিব আর সাইফউদ্দিন মিলে তাদের ধসিয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার ড্যান ক্রিস্টিয়ান, অ্যালেক্স ক্যারি, মইসেস হ্যানরিকস তিন রান করে করেছেন। মাত্র এক রান করতে সমর্থ হয়েছেন অ্যাস্টন টার্নার, নাথান এলিস ও মিচেল স্ইুপসন। এ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শ ৪ রান করে আজ সোমবার আউট হয়ে যান।

এদিকে টাইগার ওপেনার সৌম্য সরকারকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সমালোচনা চলছিল। তিনি দলকে বিপদে ফেলে বারবার আউট হচ্ছিলেন শুরুতেই। তাই তাকে আজ সোমবার দলে রাখলেও ওপেনিং থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। সৌম্যর বদলে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নাইম শেখের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন মাহেদি হাসান। ওপেনিং জুটিতে দলকে তারা ৪২ রান এনে দেন । সৌম্য ব্যাট করতে নামেন চার নাম্বারে। সেখানে ব্যাট করতে নেমে ১৬ রানে ফেরেন তিনি।

তবে তাদের ২৭ বলে ৪২ রানের ঝড়ো জুটিটি শেষ পর্যন্ত থেমেছে মাহেদির ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অসি অফস্পিনার অ্যাটশন টার্নারকে সম্ভবত ব্যাকফুটে গিয়ে পুল খেলতে চেয়েছিলেন মাহেদি। কিন্তু হাত থেকে তার ব্যাট ছুটে যায়, আর বল উঠে যায় ওপরে। মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে সহজেই ক্যাচ নেন অ্যাশটন অ্যাগার। তিনি আউট হন ১৩ বলে ১২ রান করে। আরেক ওপেনার নাঈম ১ চার ও ১ ছয়ে ২৩ বলে ২৩ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে লড়াই করার আভাস দিয়েও ব্যর্থ হন সাকিব। তিনি ১১ রান করে সাজঘরে ফিরেন। এরপর সৌম্য ১৬ করে আউট হন । এরপর তাড়াহুড়ো করে খেলতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অ্যাগারের শর্ট লেন্থের বলে তুলে দেন তার হাতেই। ১৪ বলে ১ ছয়ের মারে ১৯ রান করেন টাইগার অধিনায়ক। এরপর ১৩ বলে ৮ রান করেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান।

আর-এসএস/এসএইচ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *