সৌম্য-শামীম ঝড়ে রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের – শেয়ার বিজ


ক্রীড়া ডেস্কঃ হারারের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। রোববার জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং দেখেই ব্যাপারটি অনুমান করেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমিরা। তবে সেখানে ১৯৪ রান তাড়া সহজ নয় কখনো এটাও ভাবনায় ছিল তাদের। তবে সবার ধারণা পাল্টে দিয়েছেন সৌম্য সরকার ও শামীম হোসাইন। তাদের শুরু আর শেষের ঝড়ো ব্যাটিং পারফরম্যান্সে রেকর্ড রান তাড়া করে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ৫ উইকেটে জিতে নিয়েছে টিম টাইগার্স। এরফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ মাহমুদউল্লাহর দল জিতে নিল ২-১ ব্যবধানে।

১৯৪ রান তাড়া করতে নেমে রোববার বাংলাদেশ জিতে যায় ৪ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে। বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে ২১৫ রান তাড়ায় জয়টিই কেবল এগিয়ে।

সিরিজের শেষ ম্যাচে ৪৯ বলে ৯ চার ও ছয়ে সৌম্য সরকার করেন ৬৮ রান। এদিকে শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন শামীম। এ তরুণ তুর্কি করেন ১৫ বলে ৬ চারে অপরাজিত ৩১ রান।

এবারের জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্ট, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি জয়ের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতল বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্য ছুঁতে শুরু থেকেই রোববার ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সৌম্য। চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে ফিফটি তুলে নেন তিনি। পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শামীম পাটোয়ারী ঝড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়া জয় পায় বাংলাদেশ। এর আগে এত রান তাড়া করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জেতেনি বাংলাদেশ।

হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে রোববার লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা সুখকর হয়নি বাংলাদেশের। ওপেনার নাঈম শেখ আউট হন ৩ রান করে। তবে  সাকিবকে নিয়ে রান তোলার গতি ধরে রাখেন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে পঞ্চাশ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচ বাঁচিয়ে রাখে বাংলাদেশ। সাকিব অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি, ফেরেন ১৩ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে। যেখানে ২টি ছয়ের সঙ্গে ১টি চার মারেন।

সাকিব ফিরলেও সৌম্য এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। তৃতীয় উইকেটে তাকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দেন দারুণ সঙ্গ। এরমধ্যে ৪০ বলে ক্যারিয়ারের ৪র্থ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য।
এরপর ৪৯ বলে ৯টি ও ১টি ছয়ের মারে ৬৮ রান করে আউট হন তিনি। ম্যাচ জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২৮ বলে ৩৪) ও শামীম পাটোয়ারি (১৫ বলে অপরাজিত ৩১)।

এর আগে টস নিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের ইঙ্গিত দেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদেরর উপর চড়াও হন জিম্বাবুইয়ান ওপেনার মেধেভেরে। তাসকিন হজম করেন ৫টি চার!

ইনিংসের ৪ ওভার ২ বলেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলীয় স্কোর ৫০ ছাড়ায় জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লের শেষ বলে বাংলাদেশকে খানিক স্বস্তি দিয়ে প্রথম উইকেট এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২০ বলে ২৭ রানে ফেরেন মারুমানি। এরপর মেধেভেরের সঙ্গে যোগ দেন চাকাভা। বাংলাদেশি বোলারদের শাসন করে ইনিংসের ১০ ওভারেই দলকে ১০০ রানের কোটা ছোঁয়ান তারা।

দ্রুত রান তুলতে থাকা জিম্বাবুয়ের লাগাম কিছুটা টেনে ধরেন সৌম্য। ১২তম ওভারেই প্রথম বলে তিনি ফেরান চাকাভাকে (৪৮)। এর পরের বলেই সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করেন এ পেসার। তারপরও শেষদিকে ডিওন মেয়ার্সের ২৩ রানের সঙ্গে রায়ান বার্লের ১৫ বলে অপরাজিত ১৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৩ রান।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সৌম্য সরকার। পরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন এ তরকা। যে কারণে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। শুধু তাই সিরিজ সেরার পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছেন এ বাঁহাতি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৯৩/৫  (মারুমানি ২৭, মাধেভেরে ৫৪, চাকাভা ৪৮, রাজা ০, মায়ার্স ২৩, বার্ল ৩১*, জঙ্গুয়ে ১*; তাসকিন ২-০-২৮-০, সাইফ ৪-০-৫০-০, শরিফুল ৪-০-২৭-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, নাসুম ৩-০-৩৭-০, সৌম্য ৩-০-১৯-২)।

বাংলাদেশ: ১৯.২ ওভারে ১৯৪/৫ (নাঈম ৩, সৌম্য ৬৮, সাকিব ২৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৪, আফিফ ১৪, শামীম ৩১*, সোহান ১*; রাজা ১-০-১৩-০, চাতারা ৪-০-২৭-০, মুজারাবানি ৪-০-২৭-২, মায়ার্স ৪-০-৪২-০, জঙ্গুয়ে ৩-০-৪২-২, মাসাকাদজা ৩.২-০-৩৭-১)।

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচ ও সিরিজ সেরা: সৌম্য সরকার। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *