সাকিবময় ম্যাচ জিতে সিরিজ বাংলাদেশের – শেয়ার বিজ


অবশেষে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন সাকিব আল হাসান। দলের বিপর্যয়ে মুহূর্তে এক প্রান্ত আগলে রেখে এ তারকা খেললেন নিজের মতো করে। আশা জাগিয়ে ছিলেন সেঞ্চুরির। কিন্তু তার আগেই ৩ উইকেটে জিতে যায় টিম বাংলাদেশ। এরফলে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ আগেই ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল।

রোববার ম্যাচের শেষ দিকে সাকিবকে দারুণ সঙ্গ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বলতে গেলে সাকিব-সাইফের জুটির ওপর ভর করে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে সফরকারীরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা জিতেছিল ১৫৫ রানে।

এরআগে টস হেরে আগে বল হাতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা দারুণ করেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান। পরে সাকিব আল হাসান ও শরিফুল ইসলাম দাপট দেখান। এ সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ২৪০ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে শুরুটা ভাল হলেও একটা পর্যায়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে শঙ্কায় পড়ে টিম টাইগার্স। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের (৯৬) ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ৫ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে টিম টাইগার্স। এরফলে এক ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের মাটিতে এক যুগ পর ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিলো তামিম ইকবালের দল।

রান তাড়ায় শুরু থেকে বেশ দেখে শুনে খেলেন তামিম ইকবাল-লিটন দাসের ওপেনিং জুটি। কিন্তু তারা বেশিক্ষণ পারেননি দলকে টেনে নিতে। ইনিংসের ১০ম ওভারের তৃতীয় বলে জঙ্গুয়েই শিকার হয়ে ফেরেন তামিম। তার আগে তিনি করেন ৩০ বলে ২০ রান। এর কিছুক্ষণ পরেই সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। চাকাভার বলে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন লিটন। মিড-অনে সহজ ক্যাচ নেন টেইলর, ৩৩ বলে ২১ রান করে ফিরেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা লিটন। ৪৬ রানে বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় উইকেট।

দলের বিপর্যয়ে রোববারও ব্যর্থতার পরিচয় দেন মোহাম্মদ মিঠুন। অফস্টাম্পের বাইরে রিচার্ড এনগারাভার করা অনেকটা আলগা বলে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে তিনি পয়েন্টে ধরা পড়েন  ওয়েসলি মাধভেরের হাতে।

একের পর এক সতীর্থ বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন সাকিব আল হাসান। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে তিনি গড়ে তোলেন ৫৫ রানের জুটি। এরমধ্যেই সাকিব ৫৯ বলে ৬ চারে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছিলো টিম টাইগার্স। ঠিক সে সময় ব্লেসিং মুজারাবানির ক্রস-সিমের বাড়তি বলে ব্যাট চালিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাঝে মোসাদ্দেক হোসেনও ফিরেন সাজঘরে। পরে মাধভেরেকে স্লগ করতে মিডঅফে ধরা পড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। যে কারণে ফের বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তবে এক প্রান্তে ঠিকই ভারসার প্রতীক হয়ে ছিলেন সাকিব। ৭ম উইকেটে আফিফ হোসেনকে এ নিয়ে এ তারকা চেষ্টা করেছিলেন প্রতিরোধ তৈরি করার। কিন্তু তার আশা সে সময় পূরণ করতে দেননি আফিফ। সিকান্দার রাজার ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন। সঙ্গে সঙ্গে এ বাঁহাতি স্টাম্পড হয়ে ফেরেন। জয় থেকে তখন বাংলাদেশ ৬৮ রানে দূরে। ঠিক সে সময় সাকিবকে দারুণ সঙ্গ দেন সাইফ উদ্দিন। অষ্টম উইকেটে তাদের জুটি জমে ওঠে স্বাগতিক ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের সৌজন্যে।

এক প্রান্ত আগলে দারুণ খেলতে থাকা সাকিব জাগিয়ে ছিলেন সেঞ্চুরির আশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পারেননি তিন অঙ্ক ছুঁতে। তার আগেই সফরকারীরা জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব ১০৯ বলে ৮ চারে ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে তাকে দারুণ সঙ্গ দেয়া সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ৩৪ বলে ১ চারে ২৮ রান করে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে জঙ্গুয়ে নেন ৪৬ রানে ২ উইকেট। মুজারব্বানি ৩১ রানে নেন ১টি উইকেট।

এরআগে হারারে ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ উইকেটে টসে জিতে ব্যাটিং নিতে দ্বিধা করেননি জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টেইলর। তবে তাকে শুরুতেই ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। নতুন বলে জিম্বাবুয়ে ওপেনার তিনাশে কামুনহুকামুয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট করেন এ পেসার। আরেক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ১৩ রান করে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে।

এরপর রেজিস চাকাভা ও টেইলর জুটি গড়ে রান বাড়াতে থাকেন। তবে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন সাকিব। চাকাভাকে বোল্ড করেন তিনি। টেইলরের ব্যাটিং আশা জাগাচ্ছিল। এমন সময় অমার্জনীয় ভুলটা করেন তিনি। ২৫তম ওভারে শরীফুলের বাউন্সার ছেড়ে খেলেছিলেন ঠিকমতোই, কিন্তু এরপর মনের ভুলে নিজের ব্যাট স্টাম্পে টেনে আনেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক! ৫৭ বল খেলে ৪৬ রান করা টেইলর মাঠে ছাড়েন হিট উইকেট হয়ে।

টেইলরের বিদায়ের পর শরিফুল নিয়েছেন আরও তিন উইকেট। যা তার ছোট্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংই। গত ম্যাচে ওপেনিংয়ে খেলা তরুণ অলরাউন্ডার ওয়েসলি মাধেভেরে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়ের রান আড়াই শ-তে পৌঁছে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। শরীফুল ৪৫তম ওভারে এসে মাধভেরেকে অধিনায়ক তামিমের দারুণ ক্যাচ বানিয়ে ছাড়েন। এদিকে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজাও দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় আউট হন ৩০ রান করে। সাইফউদ্দিনের দারুণ বোলিংয়ের শিকার হন তিনি।

১০ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন শরীফুল। ২ উইকেট নেন সাকিব।

ব্যাট-বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাকিব। আগামী মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচ জিততেই স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ফেলবে টিম টাইগার্স।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *