লিটন-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে দিন শেষে স্বস্তি বাংলাদেশের – শেয়ার বিজ


ক্রীড়া ডেস্ক: হারারের বাউন্সি উইকেটে বুধবার শুরু থেকেই খাবি খেতে থাকে বাংলাদেশ দল। তবে এক প্রান্ত আগলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মুমিনুল। তাকে বেশ সঙ্গ দেন সাদমান ইসলাম। কিন্তু একটা পর্যায়ে দ্রুত সফরকারীদের মিডেল অর্ডার ভেঙে। তাই বড় বিপদে পড়ে রাসেল ডোমিঙ্গের শিষ্যরা। এ অবস্থা থেকে সপ্তম উইকেটে দারুণ এক জুটি গড়ে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লিটন ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও রিয়াদ হাফসেঞ্চুরি তুলে টিকে আছেন। যে কারণে জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন স্বস্তিতে শেষ করেছে মুমিনুল হকের দল।

বুধবার হারাতে ৯ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে সফরকারীদের সকালটা ছিল দুঃস্বপ্নের। কিন্তু ৭ম উইকেটে লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহর ১৩৮ রানের জুটি গড়ে সফরকারী শিবিরে স্বস্তি ফেরান। তারপরও তারা প্রথম দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ২৯৪ রান নিয়ে। লিটন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির ৫ রান দূরত্বে থেমেছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম টেস্ট খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ দিন শেষ করেছেন ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে। আলোকস্বল্পতায় এদিন ৮৩ ওভারের বেশি হয়নি খেলা।

শুরুতে পেস সহায়ক কন্ডিশন থাকলেও টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। তবে বাংলাদেশের টপ-অর্ডারের ওপর চড়াও হয়েছিলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। সাইফ হাসান-সাদমান ইসলামের ওপেনিং জুটি টিকে ৫ বল। লেগ-বাইয়ে একটি চারের পর মুজারাবানির মোটামুটি ফুল লেংথের বলে ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন সাইফ। শুরু থেকেই বেশ নড়বড়ে মনে হচ্ছিল তাঁকে।

বাংলাদেশের বিপর্যয় আরও বেড়েছে মুজারাবানির তৃতীয় ওভারে। এবার ক্রিজে আটকে থেকে খোঁচা মেরে স্লিপে ধরা পড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।১০ রানেই তারা হারিয়েছিল ২ উইকেট।

এরপর মুমিনুল ও সাদমানের জুটি পেরিয়েছিল পঞ্চাশ। তবে আশা জুগিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান। তিনিও খোঁচা দিয়ে ধরা পড়েছেন স্লিপে। এর আগে ৪ চারে করেছেন ২৩ রান।

প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনেও তিনটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নবিরতির পর মুমিনুল হকের ফিফটিতে বাংলাদেশ ভালো একটা অবস্থানের দিকে এগোতে থাকলেও ৬ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেয়েছিল আবার। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে এলবিডব্লিউ হন মুশফিকুর রহিম, পরের ওভারে ভিক্টর নিয়াউচির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাকিব আল হাসান।তবে বাংলাদেশের আশা হয়ে ছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল। ক্যারিয়ারের ১৪ তম ফিফটিতে বেশ খেলছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্নবিরতির পর তিনি থামেন ৭০ রানেই। ভিক্টর নিয়াউচির গুডলেংথের বলে কাট করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ইনিংসে সব মিলিয়ে মেরেছেন ১৩টি চার।

বাংলাদেশকে এরপর টেনেছেন লিটন ও মাহমুদউল্লাহ। দারুণ দারুণ শট খেলে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন ৮৬ তম বলে। পরে নিজের ইনিংস সেঞ্চুরির দিকেই নিচ্ছেলেন এ ডানহাতি। কিন্তু তিরিপানোকে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েছেন তিনি ৯৫ রানে। ঠিক পরের বলেই মেহেদি হাসান মিরাজও হন এলবিডব্লিউ। তবে তাসকিন আহমেদ ও মাহমুদউল্লাহর জুটি আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি। তারা অবশ্য আছে অবিচ্ছিন্নই। ২০১৮ সালের পর প্রথম আটে নামা মাহমুদউল্লাহ পেয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৭ তম ফিফটি। প্রায় দুই বছর চার মাস ও ৮ ইনিংস পর টেস্টে ফিফটি পেলেন তিনি। তার দিকেই এখন চেয়ে বাংলাদেশ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *