পরী মনির মামলায় এবার ৫ দিনের রিমান্ডে নাসির-অমি


ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিনেত্রী পরী মনির করা মামলার আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন পাঁচ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩ জুন) বিকেলে শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

এর আগে মাদক মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আজ নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ও অমিকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে পরীম নির মামলায় সাভার থানা-পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ আবদুল্লাহ আল কাফী বলেন, আগেই নাসির ও অমিকে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর আসামিদের ঢাকা থেকে সাভার থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার (১৪ জুন) সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী পরী মনি।

মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে বিকেলে প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে অমির বাসা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করে ডিবি পুলিশ। পরে ডিবির গুলশান জোনের উপ-পরিদর্শক মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেন।

১৫ জুন তাদের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি। রিমান্ড শেষে এ মামলায় তাদের আদালতে হাজির করা হবে।

মামলার এজাহারে পরী মণি বলেন, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িযোগে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হই। পথে অমি বেড়িবাঁধস্থ ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে বলে জানায়। অমির কথামতো সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনও এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। পরে আমার ছোট বোন বনি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট হতে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমার সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।

এজাহারে তিনি আরও বলেন, এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারে। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে নীলাফোলা জখম করে।

পরী মণি বলেন, আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় দুই নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চার জন এক নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করে। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারবো।

এমএইচ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *