রাতে পর্তুগাল-জার্মানি হাইভোল্টেজ ম্যাচ – Bhorer Kagoj


ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা ইউরোতে আজ রাতে মাঠে নামছে ইউরোপের হেভিওয়েটরা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স খেলতে নামবে হাঙ্গেরির বিপক্ষে। রাত ১০টায় খেলবে জার্মানি ও ইউরোর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। আর রাত ১টায় স্পেন খেলবে পোল্যান্ডের বিপক্ষে।

চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে আজ জয় তুলে নিলে রাউন্ড ষোলো নিশ্চিত হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের। কারণ তারা প্রথম ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। গতবার পর্তুগাল ইউরোতে শিরোপা জয় করলেও তারা গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচেও জয় তুলে নিতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে খেলা তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই ড্র করে কোনো মতে রাউন্ড ষোলোতে গিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার রাস্তা সুগম করে রেখেছে। এখন আজ জার্মানিকে হারিয়ে দিতে পারলেই নিশ্চিত রাউন্ড ষোলো। তখন গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি তখন পরিণত হবে নিয়ম রক্ষার ও প্রস্তুতি নেয়ার ম্যাচ।

কিন্তু দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান দেখলে পর্তুগাল খুব স্বস্তিতে থাকতে পারবে না। জার্মানি ২০১৮ বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারলেও তারা বর্তমানে আবার সুসংগঠিত হয়েছে। সেটি ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দেখিয়ে দিয়েছে তারা। জার্মানির বিপক্ষে কোনো ম্যাচে পর্তুগাল সর্বশেষবার জয় পেয়েছিল ২০০০ সালে। সেবার ৩-০ গোলে হেরেছিল জার্মানরা। এরপর দুই দল আরো চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এই চারবারে একবারো জয়ের মুখ দেখেনি পর্তুগিজরা। সর্বশেষবার দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। সেবার রোনালদোরা জার্মানদের বিপক্ষে হেরেছিল ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।

পর্তুগাল হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল তার মধ্যে দুটিই করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু আজকের ম্যাচটি জার্মানির বিপক্ষে হওয়ায় চিন্তা বেশি। কারণ রোনালদো জার্মানদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি জার্মানদের বিপক্ষে ৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং গোলবার লক্ষ্য করে ২৩ বার শট করেও একটি গোল আদায় করে নিতে পারেননি। রোনালদো ফ্রান্সের বিপক্ষে ছয়টি ম্যাচ খেলে এখনো গোল করতে পারেননি। আর হিসাবের দিক দিয়ে ফ্রান্সের পরেই রয়েছে জার্মানি। এখন আগের চার ম্যাচের মতো আজকেও যদি রোনালদো খালি হাতে ফেরেন তাহলে তা পর্তুগালের জন্য বিপদের কারণ হবে।

এদিকে জার্মানি ও পর্তুগাল শেষ যে পাঁচবার খেলতে নেমেছে সেই ম্যাচগুলোতে হয়েছে গোল বন্যা। শেষ পাঁচটি ম্যাচে দুই দল মিলে গোল করেছে ১৭টি। এই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটি ম্যাচেই তিনটি বা তার বেশি করে গোল হয়েছে। অবশ্য এই ১৭টি গোলের মধ্যে ১১টি করে জার্মানরা।

সন্ধ্যা ৭টায় হাঙ্গেরির বিপক্ষে খেলতে নামবে ফ্রান্স। দুই দল এবারই প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতার ম্যাচে খেলতে যাচ্ছে। তবে আগে বড় প্রতিযোগিতার মধ্যে বিশ্বকাপে দুবার খেলেছে। প্রথমবার ১৯৭৮ সালে ও দ্বিতীয়বার ১৯৮৬ সালে। আর দুই বারই ফ্রান্স জয় তুলে নিয়েছিল। দুই দলের শেষ পাঁচ দেখায়ও পাঁচবার জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। সর্বশেষ ২০০৫ সালে একে অপরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল তারা। আজকের ম্যাচটি হবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। আর তাই এখন হাঙ্গেরির আশা কিছুটা হলেও আছে। কারণ হাঙ্গেরির মাটিতে ফ্রান্স মাত্র একবার জয় পেয়েছে। আর হেরেছে ছয়বার। এবার ইউরোতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে হাঙ্গেরি ম্যাচের প্রায় শেষ সময় পর্যন্ত আটকে রাখতে সমর্থ হয়েছিল। কিন্তু শেষ দিকে তারা খেই হারিয়ে ফেলে। এখন আজ ফ্রান্সের বিপক্ষেও যদি একই রকম কিছু করে দেখাতে পারে তাহলে হয়তো ফ্রান্সকে রুখে দিতে পারে তারা।

এখন হাঙ্গেরি যদি আজকের ম্যাচটিতেও ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে যায় তাহলে তারা তাদের ইতিহাসে ১৯৭৮ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতায় টানা দুটি ম্যাচে হারবে। এখন হাঙ্গেরি নিশ্চয় চাইবে এই লজ্জা থেকে বাঁচতে। আর ফ্রান্স চাইবে জার্মানিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারানোর পর হাঙ্গেরির বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড ষোলোতে জায়গা করে নিতে। তাছাড়া আজ হাঙ্গেরির বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারলে ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা ছয়টি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পাবে ফ্রান্স। আর এর সম্ভাবনাটাও বেশি। তাছাড়া শেষ যে পাঁচটি ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে তার একটিতেও গোল হজম করেনি।

তাছাড়া আজ রাত ১টায় খেলতে নামতে যাওয়া স্পেন ও পোল্যান্ডও এবারই প্রথমবারের মতো কোনো বড় প্রতিযোগিতায় খেলতে যাচ্ছে। স্পেন ও পোল্যান্ড এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচ খেলেছে। আর এই ১০টি ম্যাচের মধ্যে আটটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে তারা। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর অপর ম্যাচটিতে জয় পেয়েছে পোল্যান্ড। স্প্যানিশদের বিপক্ষে তাদের একমাত্র জয়টি এসেছিল প্রায় ৪০ বছর আগে। এখন আজ যদি স্পেনকে পোল্যান্ড হারিয়ে দিতে পারে তাহলে এটি তাদের জন্য হবে অনন্য এক অর্জন। স্পেন ও পর্তুগাল সর্বশেষবার কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১০ সালে। সেবার পোলিশদের ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা হারিয়েছিল ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।

এদিকে সুইডেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করায় আজ স্পেনের জন্য পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আজকের ম্যাচটিতে যদি তারা জয় তুলে না নিতে পারে তাহলে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

রি-এস/ইভূ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *