বক্স অফিস মাতানো দুই ছবি স্টার সিনেপ্লেক্সে


করোনায় সিনেমা হল বন্ধ থাকায় একের পর এক প্রস্ততি নিয়েও হলিউডের সিনেমা মুক্তি দিতে না পারায় আগের তুলনায় ৮০ শতাংশ কমেছে হলিউডের বক্স অফিসের আয়। তবে আশা জাগানিয়া খবর হলো গত মে মাসে খুলেছে প্রেক্ষাগৃহগুলো। দর্শকও হলমুখী হয়েছেন। এরই মধ্যে মুক্তি পাওয়া কিছু ছবির বক্স অফিস রিপোর্টও আশাব্যঞ্জক।

গত ৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য কনজ্যুরিং: দ্য ডেভিল মেইড মি ডু ইট’। মুক্তির প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে এই ছবি। প্রথম দিনেই এই ছবি আয় করে নিয়েছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২৮ মে মুক্তি পায় ‘ক্রুয়েলা’। ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটের এই ছবিটি এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে ১১২ মার্কিন মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সুখবর হলো, বক্স অফিসে প্রাণ ফেরানো এ দু’টি ছবি মুক্তি পেয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সে।

দ্য কনজ্যুরিং: দ্য ডেভিল মেইড মি ডু ইট

বলা হচ্ছে, হলিউডের সেরা দশ ভৌতিক ছবির একটি ‘দ্য কনজ্যুরিং’। ২০১৩ সালে প্রথম ছবি দিয়েই তুমুল আলোড়ন। তিন বছর পর দ্বিতীয় ছবিও কাঁপিয়ে তোলে দর্শকমহল। এরপর থেকে ‘কনজ্যুরিং’-এর নাম শুনলেই দর্শকদের হাড় হিম হয়ে আসে রীতিমত। ভৌতিক ছবির ভক্তরা মুখিয়ে থাকেন এ সিরিজের ছবির জন্য। তাই নতুন ছবি মুক্তির পর করোনা মহামারীর মধ্যেও হুমড়ি খেয়ে পড়েছে দর্শক। গত ৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য কনজ্যুরিং: দ্য ডেভিল মেইড মি ডু ইট’। মুক্তির প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে এই ছবি। প্রথম দিনেই এই ছবি আয় করে নিয়েছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার।

ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেক রেকর্ড গড়বে এ ছবি। নতুন এই ছবির গল্প, নির্মাণে রয়েছে দর্শকদের জন্য বিশেষ চমক। মাইকেল কেভসের পরিচালনায় এ ছবির প্রযোজক জনপ্রিয় হরর চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমস ওয়ান। ইংল্যান্ডের রোড আইল্যান্ডে অবস্থিত একটি ফার্ম হাউসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গল্প বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ১৯৭১ সালে বিচ্ছিন্ন ভূতুড়ে একটি ফার্ম হাউসে এক পরিবার ও অস্বাভাবিক কর্মকান্ড নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র হরর সিনেমাপ্রেমীদের কাছে অসামান্য আবেদন তৈরি করে। সত্যিকার প্যারানরমাল কার্যকলাপের তদন্ত ও বিশ্বাসযোগ্যতা বর্তমান উন্নত দুনিয়ায় দেখা না গেলেও তখনকার খুব জনপ্রিয় একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত এটি।

রজার এবং ক্যারোলিন পেরোন তাদের পাঁচ কন্যা- আন্দ্র্রে, ন্যান্সি, ক্রিস্টিন, সিন্ডি ও এপ্রিল এবং তাদের কুকুর স্যাডিকে নিয়ে এসেছিলেন এই বাড়িতে। সেখানেই ঘটে যত অঘটন। সেই ফার্ম হাউসে ঘটে যাওয়া প্যারানরমাল ঘটনাগুলো উন্মোচনে আসেন এড ওয়ারেন ও লরেন ওয়ারেন। অতিপ্রাকৃতিক, বিপজ্জনক ও বিতর্কিত সব প্যারানরমাল ঘটনা তদন্তের শতাধিক ঘটনার সাক্ষী তারা। যদিও এখন পর্যন্ত সেই কেস ফাইল সবার জন্য উন্মোচিত করা হয়নি। ‘পেরোন ফ্যামিলি হান্টিং’ নামক এই কেস ফাইল পরিচালক জেমস ওয়ানকে খুবই অভিভূত করেছিল। তাই তো তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এ ঘটনা সিনেমার পর্দায় আনবেন। অনেক চেষ্টার পর ২০১৩ সালে প্যাট্রিক উইলসন ও ভেরা ফার্মিগোকে মূল চরিত্র করে ‘দ্য কনজুরিং’ নির্মাণ করেন। এটি হরর সিনেমার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

অনন্য এক গল্প হিসেবে জায়গা করে নেয়। জন্ম নেয় বিখ্যাত কনজুরিং ইউনিভার্স, যাকে অনেকেই বলেন হরর সিনেমাজগতের এমসিইউ ইউনিভার্স। একের পর এক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জিতে নিয়েছে পুরস্কার। প্রথম সিনেমায় জেমস ওয়ান দর্শককে কৌতূহলী করার জন্য অনেক উপাদান দিয়েছেন, অনেক প্রশ্নের উত্তর রেখেছেন অসমাপ্ত। গল্পের বাঁকে বাঁকে সৃষ্টি করেছেন নানা ধোঁয়াশা, যার উত্তর মিলেছে ২০১৬ সালে পরবর্তী সিনেমায়। এবারের ছবি সম্পর্কে পরিচালক রাখঢাক না রেখেই বলেন কনজ্যুরিং সিরিজের সবচাইতে ভয়ঙ্কর ছবি এটি। তার কথা যে অমূলক নয় সে প্রমাণ মিলছে দর্শকদের সাড়া দেখে।

ক্রুয়েলা

ক্রেইগ গিলেস্পি পরিচালিত ছবিটি ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে মুক্তি পায়নি। ছবিটি নির্মিত হয়েছে ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ডডি স্মিথের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ওয়ান হান্ড্রেড অ্যান্ড ওয়ান ডালমেশিয়ান’ ছবির ক্রুয়েলা নামের এক নারীকে নিয়ে। যার পুরো নাম ক্রুয়েলা ডে ভিল। যে সাদা-কালো ডালমেশিয়ান কুকুরের চামড়া দিয়ে কোট বানায়। ফলে ক্রুয়েলা পোষা প্রাণীদের দোকান থেকে শুধু ডালমেশিয়ান কুকুর কেনে। ঘটনাক্রমে পঙ্গো ও পেরদিতা নামের এক ডালমেশিয়ান দম্পতির কুকুর ছানারা ক্রুয়েলার নজরে আসে। ক্রুয়েলা সেগুলো কিনতে চায়। কিন্তু পঙ্গো ও পেরদিতার মালিক রজার ও অনিতা তাদের বিক্রি করবে না।

ক্রুয়েলা ক্ষুব্ধ হয়ে কুকুর ছানাগুলো চুরির পরিকল্পনা করে। কুকুর ছানা ও তাদের মা-বাবার জীবনে ক্রুয়েলা বয়ে নিয়ে আসে ভয় আর আতঙ্ক। এভাবেই গল্প এগিয়ে যেতে থাকে। এই সিনেমায় ক্রুয়েলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের লাস্যময়ী অভিনেত্রী এমা স্টোন। দীর্ঘদিন ধরে অভিনেত্রী এমা স্টোনকে ক্রুয়েলা রূপে দেখার অপেক্ষায় ছিল ভক্তরা। বলতেই হয়, অপেক্ষার ফল মধুর হয়েছে। কারণ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘ক্রুয়েলা’। ছবিতে ১৯৭০ দশকের লন্ডনভিত্তিক পাঙ্ক রক বিপ্লবের পটভূমিতে ক্রুয়েলা এস্টেলা নামে এক তরুণীর গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। যে ফ্যাশন ব্যবসায় সাফল্য পাওয়ার জন্য মরিয়া ও নির্দয় হয়ে ওঠে। যার কারণে ক্রুয়েলা ডেভিলে পরিণত হয়। ছবির পটভূমি ৭০ দশকের লন্ডন, যেখানে এমা স্টোন একজন উঠতি ফ্যাশন ডিজাইনার। তার চরিত্রের নাম এস্টেলা। এই ছবিতে এমা স্টোনের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন এমা থম্পসন, মার্ক স্ট্রং, জোল ফ্রাই, কারবি হাওয়েল-ব্যাপটিস্ট প্রমুখ।

‘ক্রুয়েলা’ ছবির প্রথম ট্রেইলারের আগে ক্রুয়েলার একটি পোস্টারও সিনেমাপ্রেমীদের দারুণ পছন্দ হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। যদিও ট্রেইলারে গল্পের ব্যাপারে তেমন কিছু জানা যায়নি, তবে সবাই এমার লুক দেখে বিমোহিত। তবে এমা স্টোনের এই ‘ক্রুয়েলা’ ছবিটি কিন্তু ‘ওয়ান হান্ড্রেড অ্যান্ড ওয়ান ডালমেশিয়ান’-এর খলচরিত্রের ওপর নির্ভর করে নির্মিত প্রথম লাইভ-অ্যাকশন রূপান্তর নয়। এর আগে হলিউড অভিনেত্রী গ্লেন ক্লোজ ১৯৯৬ সালে ক্রুয়েলা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘ক্রুয়েলা’র জন্য গ্লেন ক্লোজ পেয়েছিলেন গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন। আর সিনেমাটি বেস্ট মেকআপ ইফেক্টের জন্য বাফটা মনোনয়ন পেয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এবারের ক্রুয়েলার এক্সিকিউটিভ প্রডিউসারও গ্লেন ক্লোজ! ২০২১ সালে এসে এমা স্টোনের ক্রুয়েলা কি অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে-এটাই এখন দেখার বিষয়।

রি-এস/ইভূ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *