অশ্রুসিক্ত চোখে ফেরার কথা জানালেন রামোস


রাতেই খবর বেরিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ১৬ বছরের সম্পর্কের ইতি টানছেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস। বেতন আর চুক্তি নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দুপক্ষের এই বিচ্ছেদ। তবে তর্কবিতর্ক শেষে রামোস নাকি রিয়ালের প্রস্তাব গ্রহণও করতে যাচ্ছিলেন, গিয়ে দেখলেন সেই প্রস্তাব আর টেবিলে নেই। এরপর আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এসে কাঁদলেন রামোস, জানালেন জীবনান্দ দাশের ন্যায় নতুন রূপে ফেরার কথাও।

বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় দুচোখ ভেজান রামোস। কান্নাজড়িত কণ্ঠেই বলেন, ‘এখন সেই মুহূর্তটা এসে গেছে। যা আমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি। সময়টা রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় বলার। অথচ বাবার হাত ধরে এই ক্লাবে আমার ঢুকা! আবেগ প্রবণ না হয়ে উপায় নেই। তবে আমি চেয়েছিলাম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বিদায়টা জানাতে। সেটা আর হলো না, বিদায়টা নিতে হলো ভালদেভাস থেকেই।’

আবেগ তাড়িত রামোস বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদকে ধন্যবাদ। তোমাকে আমি সারা জীবন বুকের মধ্য বয়ে বেড়াব। আমার জীবনের একটা চমৎকার, অদ্বিতীয় মুহূর্তের অবসান। এখানে আমি যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পেয়েছি, সুযোগ পেয়েছি ট্রফি ক্যাবিনেটে একের পর এক নতুন সংযোজন আনার। তাই সবাইকে ধন্যবাদ। শুভ বিদায়ের চেয়েও এটি আমার কাছে বেশি কিছু। আমাদের আবার দেখা হবে, কারণ আমি আবার ফিরব এই ক্লাবে।’

সদ্য সমাপ্ত মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছিল স্প্যানিশ কিংবদন্তি মাদ্রিদ ছাড়বেন। ক্লাব ও রামোস এই দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায়ই এই পরিণতি। রামোসকে নিয়ে এই ঘোষণাটি এলো তার সঙ্গে রিয়ালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ২ সপ্তাহ আগে। রিয়াল মাদ্রিদ চেয়েছিল ১০ শতাংশ বেতন কমানোসহ ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে এক বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল ক্লাব। তবে তিনি চেয়েছিলেন দুই বছরের চুক্তি।

শৈশবের ক্লাব সেভিয়া থেকে ২০০৫ সালে দুই কোটি ৭০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফি -তে রিয়ালে যোগ দেন রামোস। এরপর লস ব্লাঙ্কসদের তো বটেই নিজেকে বিশ্বের সেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। রক্ষণভাগ ছাড়াও রামোসের গোল করার ক্ষমতা ছিল বলার মতো। ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে তার ৯৩তম মিনিটের গোলেই সমতায় ফিরেছিল রিয়াল। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতাটিতে রিয়াল জিতেছিল নিজেদের দশম শিরোপা, যা পরিচিতি পায় লা ডেসিমা নামে।

রিয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৭১ ম্যাচে খেলেছেন রামোস। যেখানে কার্যকরী ১০১টি গোলও রয়েছে। এ সময় গ্যালাকটিকোদের হয়ে তিনি ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৪টি ক্লাব বিশ্বকাপ, ৫টি লা লিগাসহ তিনি জিতেছেন মোট ২২টি শিরোপা, পাকো গেন্তোর (২৩) পর যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সেভিয়া ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছিলেন ৫০ ম্যাচ, করেছিলেন ৩ গোল। এই দলটির হয়েই শৈশবে ফুটবলে আগমন রামোসের। পরবর্তীতে এই রামোসই যে নিজেকে পাওলো মালদিনি ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারদের কাতারে নিয়ে যাবেন তা কে জানতেন!

রি-এস/ইভূ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *