রাজশাহী বিভাগে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত


রাজশাহী বিভাগে একদিনে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুন) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৬৭৩ জনের। মারা গেছেন ১২ জন। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত এটিই একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা। আগের দিন সোমবার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী শনাক্তের সংখ্যা ৬০৭। গত ৫ জুন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের আট জেলায় পিসিআর ল্যাব, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন ও জিন এক্সপার্ট মেশিনে মোট ৪ হাজার ১৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৬৭৩ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।

নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু মিলিয়ে বিভাগে এর মোট সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯ হাজার ১০৪ এবং ৬০৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রাজশাহী জেলার ২৯৯ জন। এ ছাড়া নাটোরে ৪২, জয়পুরহাটে ৫২, বগুড়ায় ২৫, সিরাজগঞ্জে ১৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৯, নওগাঁয় ৩৬ ও পাবনার বাসিন্দা ১৩ জন।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁর তিনজন করে। এ ছাড়া একজন করে রাজশাহী, নাটোর ও জয়পুরহাটের বাসিন্দা।

বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক বগুড়ার, ৩২১ জন। রাজশাহীতে মারা গেছেন ৯৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৯, নওগাঁয় ৪৮, নাটোরে ২৮, জয়পুরহাটে ১৩, সিরাজগঞ্জে ২৪ ও পাবনায় ২২ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম সাত দিনে ৫১ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের আট জেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী প্রতিবেদক জানান, নগরীর বাসিন্দাদের ভ্রাম্যমাণ করোনা শনাক্তকরণে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে ফ্রি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কার্যক্রমে মঙ্গলবার নগরীর ১৩টি স্থানে ৯৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এতে আক্রান্তের হার আসে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাসিকের ২, ১৩, ২৩ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চারটি প্রাথমিক আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টার এবং মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৮টি মোড়ে ৯৫৮ জন ব্যক্তির র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বলেন, সিটি মেয়রের নিদের্শক্রমে চারটি প্রাথমিক আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টার ও ৮টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অস্থায়ী কেন্দ্রে করোনার ফ্রি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে করোনার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার পাশপাশি তাৎক্ষণিক রেজাল্ট পাওয়া যাবে। জনস্বার্থে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

সহকারী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, বিভাগের সব জেলায় র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে শনাক্তের পরিমাণ বাড়ছে। তবে বিভাগের অনেক জেলায় শনাক্তের হার কমছে।

ডে/ আরআর



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *