রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ম্যানসিটি-চেলসি মুখোমুখি


উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই ইংলিশ ক্লাব চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি। পর্তুগালের পোর্তোতে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এটি ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার ৬৬তম মৌসুমের ফাইনাল হবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে মাত্র তৃতীয়বারের মতো দুই ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিযোগিতার ম্যাচে খেলতে নামছে। সর্বশেষ ১৯৭০-৭১ মৌসুমে কাপ উইনার্স কাপের সেমির দুটি ম্যাচে খেলেছিল দুই দল। মানে বছরের হিসাবে প্রায় ৫০ বছর পর দুই দল আবার ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলতে নামছে। এখন প্রশ্ন এই ৫০ বছর পরের দেখায় জয় পাবে কে?।

এই মৌসুমের সেমিফাইনালে ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে চেলসি তৃতীয়বারের মতো ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় খেলতে নামতে যাচ্ছে। তারা ২০১২-১৩ মৌসুমে শিরোপা জয় করেছিল। এরপর দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষার পর আবার ইউরোপের রাজার মুকুট নিজেদের মাথায় দেয়ার সুযোগ এসেছে স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির।

দুই দলের শেষ দুটি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে শেষ দেখায় দুবারই জয় পেয়েছে চেলসি। সর্বশেষ ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ম্যানসিটির বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচে জয় তুলে নিতে পেরেছিল চেলসি। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চেলসি সিটিজেনদের বিপক্ষে টানা আটটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল। দুই দলের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকালে বলা যায় চেলসি হয়তো তাদের ঘরে শিরোপা নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ম্যানসিটিও চেলসিকে সহজে ছেড়ে দেবে না। তারা প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলতে নামছে, তারা চাইবে শিরোপা জয় করে তবেই ঘরে ফিরতে।

অনুশীলনে চেলসির খেলোয়াড়রা

ম্যানচেস্টার সিটির এবার ফাইনালে জায়গা করে নেয়ার মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টানা তিন মৌসুমে তিনটি নতুন দল ফাইনালে খেলেছে। ২০১৯ সালে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম প্রথমবারের মতো, ২০২০ সালে ফরাসি ক্লাব পিএসজি প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলে। আর ২০২১ সালে ম্যানসিটি প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় টানা তিন মৌসুমে তিনটি নতুন দলের ফাইনাল খেলার ঘটনা সর্বশেষবার ঘটেছিল ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। সেবার টানা তিন মৌসুমে নতুন দল হিসেবে ফাইনালে খেলেছিল যথাক্রমে স্টেওয়া বুচারেস্ট, এফ সি পোর্তো ও পিএসভি। ওই সময় ইউরোপের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতাটি ইউরোপিয়ান কাপ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এর নাম রাখা হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

এদিকে চেলসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এ মৌসুমের সেমিফাইনালে খেলে শক্তিশালী দল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। কিন্তু রিয়ালকে সেমির দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে কোনো পাত্তাই দেয়নি চেলসি। দুই দলের প্রথম লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে চেলসি ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি সেমিতে খেলে গতবারের ফাইনালিস্ট পিএসজির বিপক্ষে। তারা প্রথম লেগে নেইমারদের ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় লেগে তুলে নেয় ২-০ ব্যবধানের জয়। ম্যানসিটি আর চেলসি এখন পর্যন্ত ১৬৮ বার একে অপরের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে চেলসি জয় পেয়েছে ৭০টি ম্যাচে। আর ম্যানসিটির জয় ৫৯ ম্যাচে। বাকি ম্যাচগুলো ড্র হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই মৌসুমে চেলসির পারফরম্যান্স ভালো হলেও ফুটবল বোদ্ধারা বলছেন যে হয়তো চেলসিকে হারিয়ে শিরোপা নিয়ে যাবে ম্যানসিটিই।

তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাস ঘাটলে বলা যায় শিরোপা হয়তোবা জিতবে চেলসি। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এই মঞ্চে শেষ দশবার নতুন দল হিসেবে যে দল খেলেছে তার মধ্যে মাত্র এক বার প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলা দল জয় পেয়েছে। বাকি ৯ বারই নতুন দলকে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের বিপক্ষে ফাইনালে খেলে জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। সেবারই প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলেছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। সেই ফাইনালে জুভেন্টাসকে তারা ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল। এরপর এই ২০২১ সাল পর্যন্ত আর কোনো দল এটি করতে পারেনি। তবে ফুটবল হলো মাঠের খেলা। আগে কি হয়েছে না হয়েছে সেটি কাজে আসবে না ম্যানসিটির ক্ষেত্রে। যদি তারা তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে তাহলে আগের ইতিহাস কোনো ব্যাপার বা চিন্তার বিষয় না ম্যানসিটির জন্য।

আজকের ম্যাচের জন্য ইতোমধ্যেই একাদশ সাজিয়ে ফেলেছেন দুই দলের কোচ। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা তার একাদশ সাজাবেন এডারসন, ওয়াকার, দিয়াস, স্টোনস, জিনচেনকো, ফার্নান্দিনহো, গুনদোগান, সিলভা, মাহরেজ, ডি ব্রুইন ও ফোডেনকে নিয়ে। অপরদিকে চেলসি কোচ টমাস টুখেল তার একাদশ সাজাবেন মেন্ডি, আজপিলিকুয়েতা, সিলভা, রুদিগার, জেমস, কোভাকিক, কন্তে, চিলওয়েল, মাউন্ট, ওয়ের্নার ও হার্ভেজকে নিয়ে। যদিও গোলরক্ষক মেন্ডিকে নিয়ে একটু শঙ্কা আছে। কারণ প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচটিতে গোলবারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাঠ থেকে ওঠে যেতে হয়েছিল তাকে।

এদিকে এ মৌসুমের ফাইনাল ম্যাচটি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চেলসি ও ম্যানসিটির চাপের কারণে ইস্তাম্বুল থেকে ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে যাওয়া হয় পোর্তোতে। যদিও উয়েফা কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটি। ইংল্যান্ড থেকে তুরস্কে বর্তমানে বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে ইংল্যান্ড। আর যেহেতু ফাইনালে দুই ইংলিশ ক্লাব খেলছে তাই তুরস্ক থেকে ভেন্যু সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় উয়েফা।

এসআর



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *