টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সংসদে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী


করোনা মহামারিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, টিকা আমদানী নিয়ে ধুম্র্রজাল সৃষ্টি ইত্যাদি অনিয়মের কারণে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার (৭ জুন) সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর আনা ছাটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাপক সমালোচনা করেন। বক্তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ে কর্তৃত্ব নেই বলে অভিযোগ তোলেন তারা। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন- তারা ভালো করছেন। বাংলাদেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে খুবই সফলতা দেখিয়েছে।

সোমবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা কালে বিরোধীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানান অনিয়ম, টিকা আমদানী নিয়ে অনিশ্চয়তা, দুর্নীতি এবং চলতি অর্থবছরের দেয়া বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে না পারার কারণে ব্যাপক সমালোচনা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে সংসদে বিরোদী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, করোনা ভাইরাস রোধে কোভিড-১৯ টিকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা ও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষের টিকা দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত টিকা কোথা থেকে কতটুক পাব? কখন পাব? এটা কেউ জানি না। শুধু আশার বাণী শুনতে পাচ্ছি, নিশ্চিতভাবে আসবে এসব কথা জানি না। টিকার অনিশ্চয়তা দূর করতে না পারলে জীবন জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অর্থনীতি মুখ থুবরে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, টিকা দিয়ে শুধু জীবন নয়, জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে ২৫ লাখ করে টিকা দিতে হবে। তার মানে ১৮ কোটি জনসংখ্যা যদি হয় তাহলে ৮০ ভাগ লোক হবে ১৫ কোটি জনসংখ্যা। হিসেব অনুযায়ী একটি ডোজ করে দিতে ৫ বছর সময় লাগবে। আর দুটি ডোজ দিলে ১০ বছরের কাছাকাছি সময় লাগবে। ১০ বছর সময় ধরে যদি টিকা দেওয়া হয়, তাহলে এই দশ বছর দেশের অর্থনীতির কি অবস্থা হবে? জীবন ও জীবিকার কি অবস্থা হবে?

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, কেনাকাটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। কীভাবে এই মন্ত্রণালয়ের সংস্কার করবেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি বেহাল হয়ে গেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের আওতায় আনতে হবে। বেহাল দশা থেকে রক্ষা করতে কমিটি গঠন করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে পারলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোধ করা যাবে। তিনি জানান, ২০ লাখ মানুষ এক ডোজ টিকা পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। তাদের আরেক ডোজের কী হবে, তার ঠিক নেই।

রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অবহেলার মাশুল দিতে হচ্ছে। জিডিপির অন্তত পাঁচ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল। আবার যেটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাও ব্যবহার হয়নি। তিনি বলেন, ১০ মাসে স্বাস্থ্য খাতে এডিপির মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এখন আবার নতুন বরাদ্দ চাইছে। কেন ৭৫ শতাংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে, তার জবাব স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে।

রওশন আরা মান্নান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আফজাল-মালেকরা অনিয়ম করছে রূপকথার গল্পের মতো। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এখন কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু তাদের থামানো যাচ্ছে না। এখানে অনেক মালেক, আফজালের ছড়াছড়ি। একজন মহিলা উপসচিবের কানাডাসহ তিনটা দেশে বাড়ি আছে বলে শুনেছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলেও আপনারতো কর্তৃত্ব নেই মন্ত্রণালয়ে! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যা হচ্ছে! তিনি বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন নেই। এখন দরকার অক্সিজেন। সেটা না এনে, আনা হচ্ছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান মেশিন। পাঠানো হচ্ছে উপজেলায়। তারা সব সাজিয়ে রেখে দিয়েছে। চালাতে পারে না। লক্ষ কোটি টাকা যাচ্ছে। কিন্তু জনগণ সেবা পাচ্ছে না। টিকা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। আদৌ টিকা আসবে কিনা সংশয়ে রয়েছে জনগণ।

রি-এভি/ আরআর



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *